ক্যাটাগরি

Showing posts with label শিক্ষা. Show all posts
Showing posts with label শিক্ষা. Show all posts

পরীক্ষা !!!


পরীক্ষা !!!
::রবিউল করিম::

লাইফটা একদম ডাল!
কুমির এনেছি কাটিয়া খাল।
চিকিৎসা বিদ্যার একী হাল?
পড়ার চাপে টালমাটাল !

আজ পড়বনা, পড়ব কাল
এই করিয়াই পুড়ল ভাল।
হঠাৎ শুনি এক বিকাল
পরীক্ষাটা কাল সকাল!

প্রশ্ন দেখেই মাথা টাল
স্যারকে কষে দিলাম গাল।
ভিক্ষাবৃত্তি বানিয়ে ঢাল
লিখনু যাহা সব ভেজাল।

এইভাবে আর কতকাল?
পণ করিলাম 'শুরু' কাল!
কিন্তু গত পাঁচটি সাল
চলছে আমার একই তাল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতার প্যারোডি

কী আর করি
::রবিউল করিম::

জীবনে জমেছে মেঘ ঘন হতাশা।
বই খুলে বসে আছি নাহি ভরসা।
রাশি রাশি প্যারা প্যারা
পড়ালেখা হল সারা
মার্কশীটে তবু খরা
পাশ দুরাশা
পড়িতে পড়িতে চুল হল ফরসা।।

একখানি ছোট বেঞ্চ, আমি একেলা।।
চারিদিকে বাঁকা চোখ করে ঝামেলা।।
ব্ল্যাক বোর্ডে দেখি লেখা
খাতা যেন থাকে ঢাকা
নাহি যেন যায় দেখা
নকল বেলা।
এপারেতে ছোট বেঞ্চ, আমি একেলা।।

গলা খেঁকে হেটে হেটে স্যার আসে বারে।
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।
ভরা গালে চলে যায়
কোন দিকে নাহি চায়
কলমেরা নিরুপায়
থামে দু'বারে।
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।

ওগো স্যার বলে যান একটু হেসে।।
খানেক আটকে গেছি উত্তরে এসে।।
যান যেথা যেতে চান
যারে খুশি বলে যান
এদিকে এসে।
আমার খাতাটি ফাঁকা রয়ে যায় শেষে।

যত পারো তত লেখো খাতার ওপরে।।
আর আছে- আর নাই দিয়েছি ভরে।।
এতক্ষণ খাতা খুলে
পড়াগুলি ছিনু ভুলে
সকলি দিলাম তুলে
কপি পেস্ট করে।
এখন পাশ করাও করুণা করে।

লাভ নাই, লাভ নাই, দেখাদেখি করি।।
বানিয়ে ছানিয়ে খাতা রেখেছো ভরি।।
মনের গগন ঘিরে
ভয় ডর ঘুরে ফিরে
ফেল মারাদের ভিড়ে
রহিনু পড়ি
পাশ আর হল নারে! কী আর করি!


কোটাঃ দিন বদল হবেই

কোটাঃ দিন বদল হবেই
::রবিউল করিম::

আমার সোনার বাংলাদেশে
অশুভ রাণীর করাল গ্রাসে
বিরোধী সকল প্রবল ত্রাসে
দিন গুনিছে বসে।

কোটার বিলোপ করতে এসে
ফকিরের পুত গাল খেল সে
সরকারী দল মারল শেষে
লাঠির আঘাত কষে।

দমন পীড়ন মুদ্রাদোষে
দুষ্ট রাণী; রুষ্ট দশে,
ভিমরি খেয়ে অবশেষে
আঙ্গুল চোষে বসে।

অপশাসন রুখতে হেসে
জান দিবি কে লড়তে এসে!
বীর সেনানী বজ্র বেশে
আঘাত হানো কষে।

দেখবি তবে যুদ্ধ শেষে
মরবে জালিম; পড়বে ধসে
জুলুম রাঙা ব্যবস্থা সে।
বদলাবে দিন শেষে...

অণুকাব্য র সাথে থাকুন, পেজটিতে লাইক দিন,
কবিতা ভালো লাগলে শেয়ার করুন,
নিজে পড়ুন অন্যকেও পড়তে দিন...

জীবন যুদ্ধ: ডাক্তার

জীবন যুদ্ধ: ডাক্তার
::রবিউল করিম::

আজকের দিন যেন অমলিন
হৃদয়ের মণিকোঠায়।
আশার ভেলা- হার জিৎ খেলা;
জীবনের হতাশায়!

জান প্রাণ খেটে ছ'বছরে মোটে
এমবিবিএস পাশ।
ছোট ডাক্তার! ওরে কত আর?
বাড়িছে দীর্ঘশ্বাস।

ইন্টার্নশিপ শেষ হলে বেশ
বেজায় বেকার জীবন।
এফসিপিএস বিসিএস
ছাড়া বড় হয়েছিল ক'জন?

পেটের দায়ে গতরে গায়ে
খাটিতে হইবে খ্যাপে,
পাঠাগারে বসে পড়া লাগে কষে
এরই মাঝে গ্যাপে গ্যাপে।

তবে যদি হয় পাশ দুর্জয়
পার্ট ওয়ান কোনমতে।
চার বছরের ট্রেনিংয়ের ফের
বাঁশেরকেল্লা ফতে।

দ্বার দ্বার ঘুরে হাতে পায়ে ধরে
ট্রেনিংয়ের পোস্ট পেয়ে;
ডাক্তার সাবে ভাবে ও অভাবে
বাঁচিল খেয়ে না খেয়ে।

দেখো! রোগী সাধে, ঘরে বউ কাঁদে
সময়ের বড় আকাল।
তাহার উপরে পড়িবার তরে
পাঠাগারে কাটে বিকাল।

বছরের পর ঘুরিছে বছর
পড়িয়া চলিছে হায়,
ফেলের উপর ফেলের বহর
পাশ নাহি আর পায়।

অবশেষে পাশ তবু গলে ফাঁস
প্রমোশন কবে হয়?
সিনিয়রিটি নাই তবু ঘুঁটি
চালাচালি করে কতিপয়।

শেষমেশ যবে পাকা চুল হবে
পদোন্নতি হবে তার;
রোগী দেখে পাকা পাঁচ শত টাকা
চাইলে কসাই ডাক্তার।

Come again...Get more...Like অণুকাব্য

কোটাণুকাব্য

কোটাণুকাব্য
::রবিউল করিম::

শতের ভিতর ছাপ্পান্নটা থাকল যদি কোটা
লেখাপড়া করে টেকে কোন সে মামুর বোটা...
কোটায় কোটায় দেশটা খেল দুধের মাছির দল
যখন তখন চাকরি পাবে খাটিয়ে কোটার বল।

আশির বেশি মার্ক উঠালেও কোটার করাল গ্রাসে
মুখের খাবার 'সোনার হরিণ' খাচ্ছে গোগ্রাসে।
সারাজীবন পড়েটড়ে বিসিএসে এসে,
কোটাবাজীর কালো হাতে চড়টি মারে কষে।

কোটার বিলোপ প্রাণের দাবি উঠায় জনে জনে;
কর্তা যারা তাদের কেউই তুলছে না তা কানে।
ওদের কানে বড়শী দিয়ে টানলে হবে কাজ
বড়শী হাতে পথে পথে নামরে সবে আজ...

সেকেন্ডারী পিপিএইচঃ শিউলী

সেকেন্ডারী পিপিএইচঃ শিউলী
::রবিউল করিম::

সেদিন রাতে কোরান হাতে
বসিয়াছি সবে পড়িতে।
কেন ক্ষণে ক্ষণে পড়িতেছে মনে
রোগিণীর বিপি কততে?

ভাবিলাম তাই ক্ষণ পরে যাই,
ফলোআপ তারে দিতে হয়…
এক লোক এসে বলিল যা শেষে
বুঝিলাম রোগী ভালো নয়।

রক্তের বান কাড়ে যেন প্রাণ
শোকের আঁধার নামে,
সে গোবেচারা মুখে কথাহারা
অসহায় ধরা ধামে!

বিপি ছিল শেষে দশটা বিশে
একশত বাই পঞ্চাশে!
ত্বরা করে তাই ছুটে গেনু ভাই
অভাগী মায়ের পাশে।

একমাস গেছে সিজার হয়েছে
পনের দিনের দিন।
খুনের দরিয়া কেমন করিয়া
হল যেন বাঁধ হীন।

তাহারও পরে এটা সেটা করে
১০ দিন করে পার
সেই আসিলে হাসপাতালে
পারে নাই যবে আর!

পালস দুর্বল; বিপি করে ফল
রোগিণী গিয়েছে শকে।
পঞ্চাশ বাই ত্রিশ মেপে পাই
এত রাতে ডাকি কাকে?

ব্যাগ তিন চার রক্ত আবার
ডিমান্ড লিখিয়া দিয়ে।
ওষুধ পাতি তাড়াতাড়ি অতি
ম্যানেজ করিনু গিয়ে।

আরেক রোগীরে রিকোয়েস্ট করে
একটি ক্যানুলা নিয়ে,
পুর ফান্ড হতে হার্টসল হাতে
চালিয়ে দিলাম গায়ে।

দুই দুইখানি ট্র্যাক্সিল আনি
দিয়ে দিনু সব ভেনে।
মেথারস্পানের একখানি ফের
মাসলে দিলাম এনে।

এই সেই করে ধীরে ধীরে পরে
নরমাল হল বিপি।
এবারের তরে লহুর আকরে
লাগিয়াছে যেন ছিপি।

এমনি করিয়া রাত্রি গড়িয়া
ফুটিল ভোরের আলো।
শিউলি ফুলে প্রাণ যেন মেলে
ঘুচিল আঁধার কালো...

শালীনতা

শালীনতা
::রবিউল করিম::

আজি হৃদয়ের ঘরে বাজে ঘুরেফিরে
শুনশান নীরবতা।
শোনে মনের গহীনে মেধা ও মননে
বেদনার কথকতা।

তার প্রাণের আবেগে হৃদয়ের বাগে
কুসুমকলিরা ফোটে।
তবু বিধাতার ভয়ে শালীনতা লয়ে
সুবোধেরা সব ছোটে।

আজি প্রাণের আবেগ মিছে ভাবাবেগ
রুধিতে যদিরে নারি।
মোর তনুমনে হবে ক্ষণে ক্ষণে
গুনাহর ফোয়ারা জারি।

যদি সৎ হতে তবে সতী পেতে;
জীবনের যত গ্লানি,
বেদনা, যাতনা কভু আসিতনা;
বাড়িতনা প্রাণহানি।।

ফাইব্রয়েড ইউটেরাসঃ মরিয়ম

ফাইব্রয়েড ইউটেরাসঃ মরিয়ম
::রবিউল করিম::

ধুম ধাম করে বিবাহের পরে
আসিয়া স্বামীর ঘরে
কপালের লেখা ধীরে ধীরে দেখা
আরম্ভ হইল পরে।

বছরের পর আসিল বছর
ভাগ্যের চাকাখানি
ঘুরিলনা তার; বাড়ে হাহাকার
জীবনে আসিল গ্লানি।

এতদিন গেল বিবাহ হল
বাচ্চা আসেনি পেটে !
যাও একখানি এসেছিল জানি
রহে নাই বহু খেটে।

গোদের উপর যেন বিষফোঁড়
বছর ছয়েক বাদে;
কী জানি ব্যাথায় যেন অভাগায়
পড়িল গহীন খাদে।

অস্ত্রোপচার হল একবার
দু হাজার নয় সালে;
মায়োমেকটমি সাথে ডিম খনি
ওভারির সিস্ট গেলে।

বছর তিনেক কাটিল অনেক
সুখ দুঃখ করে পার;
পেটের ব্যাথার চোটে সে আবার
ঘর থেকে হল বার।

দু হাজার তের-ওটি ঘরে ফেরও
আসিল দুঃখের রাণী !
ফ্যানেন্সটিয়েল দিয়ে সে ঘায়েল
সিস্ট এলো দুইখানি।

মাস তিন ধরে কাতরিয়ে পরে
বছরের মাঝখানে
তীব্র ব্যাথা; মুখে নাই কথা
পরিবার পরিজনে।

অবশেষে ফের হাসপাতালের
ওটি ঘরে শুয়ে আজ
জরায়ু হারালো; মাথায় পরিল
বন্ধ্যা নারীর তাজ !

তাহার জীবনে মধ্য গগনে
জ্বলজ্বল করে রবি।
তবু যেন সাঁঝ নামিল যে আজ
প্রাণহীন লাগে সবই।

এডমিশন নাইটঃ তাহমিনা

এডমিশন নাইটঃ তাহমিনা
::রবিউল করিম::

সে যে কী ভীষণ ছিল বিভীষণ
গতকালকের রাত!
নয়নদুটি পায়নিকো ছুটি
হতে পারিনিকো কাত।

এক এক করে সিরিয়াল ধরে
এলো সে কী সব রোগী !
প্রসব ব্যাথায় যেন মৃতপ্রায়
লহুর ভুক্ত ভোগী।

সিস্টোলে মোটে ত্রিশ কোনমতে
মাপিয়া দেখিনু তার।
হাত ধরে দ্রুত পালস পাই শত
পঞ্চাশ আরও পার !

ত্বরা করে তাই দিনু তারে ভাই
রিঞ্জার্স ল্যাকটেট।
অতঃপর গুনে দেখি ক্ষণে ক্ষণে
রেডিয়াল পালস রেট।

আজিকে সকাল যেন মহাকাল
থামিল তাহার জীবনে।
রক্তের লাগি মোরা কাঁহামাগি,
হাতছানি দেয় মরণে।

সিজারের ত্বরে নিয়ে ওটি ঘরে
সনোগ্রাম করে ফের,
জরায়ুর মাঝে সেদিনের সাঁঝে
মরণ হয়েছে বের।

অভাগীরে তাই ফেরত পাঠাই
বলে কয়ে পরিবারে।
কাটাছেঁড়া ফেলে নরম্যালি হলে
ভালো হবে শোন বা রেঃ।

ডেলিভারী শেষে ফুল নাহি আসে
মেজাজ হইল রুঢ় !
করে ম্যানুয়াল হল রিমুভাল
ফুল খানি এত বড় !

এমনিতে মড়া তার উপরে খাঁড়া
জন্ডিস আছে তার,
প্রসবের পরে লহুর আকরে
বান ডাকে বারেবার।

পরিজন যত কাঁদে অবিরত
নুন যেন লাগে ক্ষতে।
রক্তের বানে প্রাণহীন প্রাণে
টিকে আছে কোন মতে।

অবশেষে তারে ট্রান্সফার করে
মেডিসিনে করে পার।
নির্ঘুম বসে ভাবিলাম শেষে
কত আর ! কত আর !

বেচারির নাম তাহমিনা।
জানিনা বেঁচে আছে কী না

সেমিনারে অণুকাব্য

সেমিনারে অণুকাব্য
::রবিউল করিম::

সেমিনারে গিয়ে মনোযোগ দিয়ে
লেকচার শুনে পরে।
ঘোষক ডাকিল সময় আসিল
অণুকাব্যের তরে।

লেখা সেতো সোজা, বলা ভারি বোঝা
মজলিস ভরা মানুষে।
গলা টলা কাঁপে, গরম ভাপে
কান ছাড়ে ধোঁয়া বাতাসে।

আমি যে অধম বুকে নাই দম
আবৃতি করা ভার।
কোনমতে পড়ি ! হেঁসে গড়াগড়ি !
ভয় নাই যেন আর!

যুঝে শেষমেশ পড়া হল শেষ
বাঁচিলাম হাঁফ ছাড়ি !
সাত সমুদ্র ভাষা দরিদ্র
আমি দিনু যেন পাড়ি...

নান কিং দরবার হলে স্কয়ার এর সায়েন্টিফিক সেমিনার
২০.০৬.২০১৩

ফরসেপস ডেলিভারী

ফরসেপস ডেলিভারী
::রবিউল করিম::

বড় আশা করে তিন মেয়ে পরে
দেখিতে বেটার মুখ,
অনেক বয়সে ঝুঁকি নিল শেষে
ঘোঁচাতে কপাল দুঃখ।

এছাড়াও দুটি বাছা গুটি গুটি
ছ'মাসের পরে আর
থাকে নাই পেটে, চোখ দুটো ফেটে
অশ্রু গড়েছে তার।

ছয় নম্বরে এসে দম ধরে
চাপ দিয়ে দিয়ে হায়!
ঘেমে নেয়ে যায় অশ্রু গড়ায়
অধরের কোণাটায়।


অবশেষে এক ঘণ্টা খানেক
বাদে এসে সিনিয়র,
ফরসেপস হাতে নিয়ে সাথে সাথে
বলিলেন ওঁকে ধর।

মাথাখানি ধরে জোরাজুরি করে
টানাটানি হল যত;
ব্যাথার চোটে চারিদিকে ছোটে
কান্নার ঢেউ তত।

ধমকের সুরে বলা হল তারে
কেঁদেকেটে কেন মরো ?
নবজাতকের ক্ষতি হবে ফের
নড়াচড়া যদি করো।

অনেক কোশেশ করে শেষমেষ
বাহিরে আসিল মাথা।
পৃথিবীর আলো যেন সে দেখিল
কমিল মায়ের ব্যাথা।

কাঁদিল না সে তো তদবির কত
করা হল তারে নিয়ে;
রঙিন স্বপন বাদে ক্ষণেক্ষণ
ফিঁকে হয়ে থাকে জিয়ে।

সেদিনের কথা কেমনে যে ব্যথা
ভুলিব আপন মনে?
হৃদয়ের ক্ষত জ্বলে অবিরত,
বাঁচে নারে বুঝি ধনে !

আঁতুড় ঘর

আঁতুড় ঘর
::রবিউল করিম::

বারোটি ঋতুর জীবনে আঁতুড়
ঘরে প্রসূতিরা আসে;
সোয়া নয় মাস ক্লেশে করে বাস
কেহ কাঁদে, কেহ হাসে।

প্রাণের যাদুরে বহিয়া উদরে
রুধীরে বাঁধিয়া রাখি,
আহা গোবেচারী দুঃখ সাঁতারি
বাঁধিল সুখের রাখী।


হাঁসিল ভূবন শুভ দিনক্ষণ
কাঁদিল যাদুটি যবে,
খুশী পরিজন, পর কী আপন;
বরিল সকলি ভবে।

প্রতিদিন যত শিশু আসে শত
হাজার লক্ষ প্রাণ...
আঁতুড় ঘরেই শুরু হয় সেই
জীবনের জয়গান...

রাপচার্ড ইউটেরাস

রাপচার্ড ইউটেরাস
::রবিউল করিম::

কপালের ভাঁজ পড়িল যে আজ
সিনিয়রদের মুখে।
চাঁদের আলো যেন ঢেকে গেল
কী জানি বেজায় দুখে।

এসেছে রোগী যেন অভাগী
বেঁচে আছে কোন মতে।
হাতুড়ের মতি করিয়াছে ক্ষতি
সুঁই ফুটিয়েছে গা তে।

প্রসবের ব্যাথা ওঠে নাই যথা
অক্সিটোসিন কভু নয়!
ফুল ডাইলেট হলে ঝটপট
ড্রিপের কথাটি ভাবা হয়।

কিন্তু কোয়াক ডাক্তার এক
অভাগীরে দিল উহা;
ফ্যাকাসে রোগী ভুক্তভোগী
দুচোখে আঁধার গুহা।


তাহার উদরে হাত রেখে ধীরে
ম্যাডাম চমকে কয়;
জরায়ুর দশা একী বেদিশা
রাপচার মনে হয়!

ত্বরা করে তারে নিয়ে ওটি ঘরে
টেবিলে করিয়া কাত;
রক্তের লাগি রহিল বিবাগী
ডাক্তার সারা রাত।

অবশেষে লহু আসিল সে বহু
তদবির করে করে;
বড় ডাক্তারে কাটিল তাহারে
আমি রই সুতা ধরে...

পেটের ভিতরে দেখি আহারে
যেন রক্তের বান।
জরায়ুর দফা হইয়াছে রফা
মরেছে বিধির দান।

খেটেখুটে ঢের সারা হল ফের
সেই সে বাচ্চাদানি;
অভাগী আবার ঘুরালো তাহার
ভাগ্যের চাকাখানি।

আবারও হয়তো এবারের মতো
বিপদে পড়িয়া শেষে;
সাথে গৃহস্ত হবে দ্বারস্থ
হাসপাতালে এসে ...

সরকারি ওটি

সরকারি ওটি
::রবিউল করিম::

আমাদের ওটি এত পরিপাটি !
মাছি উড়ে আসে আগে;
ম্যাগটের ভয়ে হাততালি দিয়ে
সে মাছি তাড়ানো লাগে।

দুঃখ ভীষণ, চলে বিভীষণ
যুদ্ধ, নিডল হোল্ডারে
ধার নেই, সুতা ছেড়ে দেয়,
আর্টারি তাই নট করে।

ওটির এসি রোগে থাকে বেশী
বাতাসে বেজায় গরম।
ফ্যানের হাওয়ায় চুল উড়ে হায়
ক্ষতে পড়ে, পাই শরম।

এতকিছু পরে ওটির ঘরে
হররোজ হয় অপারেশান।
ইনফেকশন হলেও ক'জন,
বাকি সব সেরে ফেরত যান।

মাছের ডিম

মাছের ডিম
::রবিউল করিম::

আজ হতে এই বেশিদিন নয়
দশক চারেক আগে,
জিনিসপাতির দাম ছিল যা
শুনে বিস্ময় জাগে।

আট আনায় হতো কামলা রাজী
সারাটি দিনের মনে,
আরো পেত নুন,পেয়াজ,মরিচ
পান্তা ভাতের সনে।

ঘরে ফিরে যদি মেলে নাই মাছ
গরম ভাতের পাতে,
অমনি ছুটিত বিলের পানে
খুঁড়ে জাল নিয়ে হাতে।

একটু খানিক খাটুনি দিলেই
মিনিট দশেক পরে,
পুঁটি,ভ্যাদা আর নন্দই মাছে
খালই আসিত ভরে।

ইলিশ মাছের হালি ছিল মোটে
পোণে দুই থেকে দুই,
একটি টাকায় মিলিত বেজায়
বড় দুইখানি রুই।

সারাটি পাড়ায় জানান দিত সে
ইলিশ মাছের ঘ্রাণ,
এতখানি বড় চাকা দেখে পরে
জুড়াত সবার প্রাণ।

খাবার টেবিলে বসে বসে আজ
সেদিনের কথা ভাবি!
কেউ কেউ বসে করে এক বাটি
মাছের ডিমের দাবি।

এক এক গ্রাসে শেষ হয়ে যায়
লক্ষ মাছের প্রাণ!
আবেদন করি সকলের কাছে,
ভেবে খান! ভেবে খান!

ব্রীচ ডেলিভারি

ব্রীচ ডেলিভারি
::রবিউল করিম::

অশনি সকাল শুরু হল কাল
সাড়ে নয়টায় জেগে;
ছুটে ডিউটিতে দশটায় যেতে
ম্যাডাম উঠিল রেগে।

কাচুমাচু স্বরে সরি সরি করে
ব্যাগ রেখে বিছানাতে;
হ্যান্ড ওভারের খাতা হাতে ঢের
লিখিলাম কোন মতে।

মায়ের উদরে স্টেথো ঘুরেফিরে
হার্ট রেট দেখে কয়;
হাতে গ্লাভস পরে বলে পিভি করে
লেখ ছয়, লেখ নয়!

এমনি করিয়া রাউন্ড সারিয়া
ডক্টরস রুমে এসে;
ছুটির কাগজে লিখি ভাঁজে ভাঁজে
বিছানার পাশে বসে।

দেওয়ালের পানে দেখে বামে ডানে
ওষুধ খুজিয়া লিখি;
হঠাতই থামা, খালা বলে মামা,
একটু আসেন দেখি!

তাড়াহুড়া করে গ্লাভস পরেটরে
দেখিলাম চেয়ে হায়!
কপালের ফের! নব্জাতকের
পা দু'খানি দেখা যায়।

ব্রীচ ডেলিভারি-কীভাবে যে করি
মনে করা ভারি দায়!
পা দু'খানি ধরে উঁচু করে করে
টানিলাম বাছাটায়।

একখানি বাহু শনির রাহু
ভিতরে; বাহিরে খুন!
সাথে আছে তার মাথাখানি আর
কাঁধের কিনারা টুকুন।

টানাটানি কত চলে অবিরত
বের হল নারে বাছা!
সিনিয়র এসে হাত দিল শেষে
এবারের তরে বাঁচা।

হাতে দক্ষতা থাকে যদি যথা
বাঁধার পাহাড়ও টলে;
সফলতা চাই? কাজ করো ভাই
অভিজ্ঞতার বলে।

অবশেষে বাছা, অতিশয় কাঁচা
আসিল ধরার বুকে;
কাঁদিলনা কেন এই ভেবে যেন
কথা নাই কারো মুখে।

আম্বো হাতে দ্রুততার সাথে
সিপিআর দেওয়া শেষে,
শিশু বিভাগে দিনু আগেভাগে
কচিকাঁচাদের দেশে।

কর্ড প্রোল্যাপ্স

কর্ড প্রোল্যাপ্স
রবিউল করিম

ডিউটি সেদিন বিকেলের পালা
রোগী সামলানো ভার।
এরই মাঝে এক গর্ভবতীর
কর্ড নাকি হল বার।

চকিতে উঠিয়া গেনু দৌড়িয়া
ঘটনার মূল দেখিতে।
হাত দিয়া দেখি আর নাই বাকি
কর্ডটি মাথায় ঠেকিতে।

কর্ড বাহিরে, চিকিৎসা যে কী
ভুলিয়া গিয়াছি হায়!
কে যেন বলিল কর্ডটি ভরিয়া
প্যাক দিয়া দেওয়া যায়।

অমনি করিয়া দিলাম রাখিয়া,
কখন আসিবে বড় কেউ
ভাবিতেছি, কানে লাগিতেছে
রোগীর কান্না রোলের ঢেউ।

মিনিট দশেক বাদে সে যে এক
সিনিয়র এসে ভাই,
কী করিবে আর, টেনশন তার
বাড়িয়া চলিল তাই।

ফোনালাপ সেরে ডিসিশন করে
বলিল আমারে, আরে!
কী করো? রোগীরে রেডি করো ধরে
সিজার করিব তারে।

কর্ডে পালস নাহি, মন ত্রাহি ত্রাহি
গর্ভবাসীর প্রাণ
আছে কীনা ভাই, বুঝিতে না পাই
বাঁচে কি বিধির দান।

পেট কেটেকুটে বহু খেটেখুটে
বাহির করিনু রবি!
যেন সে যে চাঁদ, হরিষে বিষাদ
প্রাণ ছাড়া আছে সবি।

ডাক্তারণুকাব্য

ডাক্তারণুকাব্য
::রবিউল করিম::

একজন ডাক্তার,
সুখে দুঃখে মানুষের
কাছাকাছি স্থান তাঁর।
ডাক্তার, সে ডাক্তার।

একজন ডাক্তার,
ধ্যানে আর জ্ঞানে থাকে
রোগীদের সেবা যার।
ডাক্তার, ভালো ডাক্তার।

একজন ডাক্তার,
দিনরাত ডিউটিতে
নির্ঘুম রাত পার।
ডাক্তার, নিউ ডাক্তার।

একজন ডাক্তার,
মাসে গড়ে পনের
দিন থাকে খ্যাপ তাঁর।
ডাক্তার, বেকার ডাক্তার।

একজন ডাক্তার,
মাথাটার চুল উঠে
এতবড় টাক তার।
ডাক্তার, বুড়ো ডাক্তার।

একজন ডাক্তার,
ডিগ্রীটা হাতে নিয়ে
প্রমোশন নাই যার।
ডাক্তার, আমডাক্তার।

একজন ডাক্তার,
লেখাপড়া যেন তেন
এক্সামে পাস তার।
ডাক্তার, নেতা ডাক্তার।

একজন ডাক্তার,
দিনরাত হাড়াভাঙ্গা
খেটে ভাতা নাই যার।
ডাক্তার, এইচএমও ডাক্তার।

একজন ডাক্তার,
মেডিকেলে একদিনও
না পড়েও হাঁক তার।
ডাক্তার, ভুয়া ডাক্তার।

একজন ডাক্তার
সারাটি জীবন খেটে
জনসেবা কাজ যার।
ডাক্তার, গুণী ডাক্তার।

একজন ডাক্তার
সারাটি জীবন পড়ে
পাঁচশত ফিস যার।
ডাক্তার, কসাই ডাক্তার।

গুডবাই পিঙ্কু হোস্টেল...

গুডবাই পিঙ্কু হোস্টেল...
::রবিউল করিম::


পিঙ্কু হলে
তিনশ চারে প্রথম এসেছিলাম
পেশীর বলে
ছিটকে পড়ে তিনশ বাইশ গেলাম।

তার পরে ফের
চারশো এক এ ত্যাগের মহিমায়;
বুঝে শুনে ঢের
ফিরেছিনু পরে তিনশ বাইশটায়।

মাস দেড় দুই
তিনশ আটে শেষ প্রফ টার আগে;
এমন বিভূঁই
সয়নি কপালে; আবারও বাইশে যা গে!

আসিল নতুন!
আবাসন ফের ত্যাগের সংকটে;
চিরপুরাতন
তিনশত চার আবারও জুটিল বটে।

৬ টি বছর শেষে
হাজার স্মৃতির আবাস ছেড়ে;
বদল বেলায় এসে
কে যেন আজ দাগিয়ে গেছে বুকটা ফেড়ে ফেড়ে।

দিনের আলোয়
দেখবে সবে, পুঁছবে পাছে ডেকে;
তাই রাতের কালোয়
দিলাম পাড়ি খাঁ খাঁ হৃদয় ঢেকে।

ভুলণুকাব্য

ভুলণুকাব্য
::রবিউল করিম::

ভুলের তলে আটকে গিয়ে সমাজ জীবন তরী
বাঁধার বাঁধন ঘাটে ঘাটে একূল ওকূল ভরি ।
ভুল ঢাকিতেই নতুন ভুলের ভুবন দিলাম খুলি,
জনে জনে দেখল- সে লাজ কী করে আজ ভুলি।

ভুল বুঝে আজ ভুলের উপর ভুল সাজিয়ে হায়
বিদ্যে বোঝাই হলেও ভুলের পরশ থেকেই যায়।
আপন ভুলের স্বীকার যে জন নিজের মুখেই করে,
লোকলজ্জা পেলেও মনে শান্তি মেলে পরে।

দেখবে যে জন নিজের চোখে নিজের ভুলের বাহার
শুধরিবে সে, বনবে জ্ঞানী, সাধন হবে তাহার।
আজকে যারা অন্য ভাইয়ের ভুলের পিছে লাগে
রোজ হাশরে আগুন তাহার মিলবে আগেভাগে।

পরের ভুলের পিছে তুমি মিছেই কেন পড়ো ?
মরার আগেই নিজের ভুলের হিসেব কষে মরো।
দিন থাকিতে দ্বীনের রশি ধরলে জীবন খানায়
দুঃখ সুখের মাঝেও মেলে শান্তি কানায় কানায়।